বর্তনী (Circuit)
বর্তনী (Circuit) কী?
তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট চলার জন্য যে সম্পূর্ণ রাস্তা থাকে, তাকেই তড়িৎ বর্তনী বলে।
সহজ উদাহরণ: মনে করো একটা রেসিং ট্র্যাক। গাড়ি যেমন পুরো ট্র্যাকটা ঘুরে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে, কারেন্টও তেমন ব্যাটারি থেকে বের হয়ে পুরো রাস্তা ঘুরে আবার ব্যাটারিতে ফিরে আসে। এই পুরো রাস্তাটুকু হলো বর্তনী। রাস্তা কোথাও কাটা থাকলে কারেন্ট চলবে না।
বর্তনী মূলত দুই ধরণের হয়। চলো দেখি সেগুলো কী কী।
১. শ্রেণি বর্তনী (Series Circuit)
যখন একটা তড়িৎ উপকরণের (যেমন বাল্ব বা ফ্যান) পেছনে আরেকটা পর পর সাজানো থাকে, তখন তাকে শ্রেণি বর্তনী বলে।
উদাহরণ: তোমরা বিয়ে বাড়িতে বা উৎসবে ছোট ছোট মরিচ বাতি জ্বলতে দেখেছো? সেখানে একটা তারের ওপর লাইন ধরে অনেকগুলো বাতি থাকে। এটাই হলো শ্রেণি বর্তনী।

মনে রাখার টিপস:
- এই লাইনে সব বাতি বা উপকরণের ভেতর দিয়ে একই পরিমাণ কারেন্ট (
) যায়। - কিন্তু প্রতিটি উপকরণের দুই মাথার বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজ (
) আলাদা বা ভাগ হয়ে যায়। - সমস্যা হলো, যদি লাইনের একটা বাতি নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো লাইনের কারেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। মানে একটা কাটলে সব অন্ধকার।
২. সমান্তরাল বর্তনী (Parallel Circuit)
যখন সবগুলো উপকরণের এক মাথা একটা পয়েন্টে আর অন্য মাথাগুলো আরেকটা পয়েন্টে লাগানো থাকে, তখন তাকে সমান্তরাল বর্তনী বলে।
বাস্তব উদাহরণ: আমাদের বাসার ফ্যান, লাইট বা টিভির কানেকশনগুলো কিন্তু সমান্তরাল বর্তনীতে করা হয়।

মনে রাখার টিপস:
- এখানে প্রতিটি উপকরণের দুই মাথায় ভোল্টেজ (
) একদম সমান থাকে। - কিন্তু কারেন্ট যাওয়ার অনেকগুলো রাস্তা থাকে বলে কারেন্ট (
) ভাগ হয়ে যায়। - এর সুবিধা হলো, একটা ফ্যান বন্ধ করলে লাইট বন্ধ হয় না। মানে একটা নষ্ট হলেও বাকিগুলো ঠিকঠাক চলে।
একটু ঝালাই করে নেই (এক নজরে)
শ্রেণি বর্তনীতে:
- কারেন্ট (
) সবার জন্য একই (Same) থাকে। - ভোল্টেজ (
) সবার মধ্যে ভাগ (Divide) হয়ে যায়।
সমান্তরাল বর্তনীতে:
- কারেন্ট (
) বিভিন্ন রাস্তায় ভাগ (Divide) হয়ে যায়। - ভোল্টেজ (
) সবার জন্য একই (Same) থাকে।