চার্জের কোয়ান্টায়ন

চার্জের কোয়ান্টায়ন

"চার্জের কোয়ান্টায়ন" কথাটা শুনতে অনেক কঠিন মনে হলেও, ব্যাপারটা আসলে খুবই সোজা।

ধরো, তোমার কাছে অনেকগুলো এক টাকার কয়েন আছে। তুমি দোকান থেকে কিছু কিনতে গেলে। তুমি কি দোকানদারকে দেড়টা কয়েন (১.৫ টাকা) বা আড়াইটা কয়েন (২.৫ টাকা) দিতে পারবে? পারবে না। তোমাকে হয় একটা কয়েন দিতে হবে, না হয় দুইটা, না হয় তিনটা... মানে সবসময় পূর্ণ সংখ্যায় কয়েন দিতে হবে। ভাঙা বা অর্ধেক কয়েন তো চলে না!

চার্জের ব্যাপারটাও ঠিক এই রকম। প্রকৃতিতে চার্জগুলোও এক-একটা নির্দিষ্ট প্যাকেটের মতো থাকে। এই সবচেয়ে ছোট প্যাকেটটার মান হলো একটা ইলেকট্রনের চার্জের সমান। একে আমরা e দিয়ে লিখি।

তো, যেকোনো বস্তুতে মোট চার্জ হবে এই e-এর একটা পূর্ণ সংখ্যার গুণিতক। মানে, কোনো বস্তুর চার্জ হতে পারে 1e, 2e, 10e, 100e... এই রকম। কিন্তু কখনোই 1.5e বা 2.7e-এর মতো ভাঙা সংখ্যার চার্জ হতে পারবে না।

q=ne

:::info
💡 এখানে,
q= চার্জের পরিমাণ
n= ইলেক্ট্রন সংখ্যা
e= ইলেক্ট্রনের চার্জ
:::

সোজা কথায়, চার্জকে তুমি যখনই মাপবে, দেখবে সেটা একটা নির্দিষ্ট ছোট মানের (ইলেকট্রনের চার্জ) গুণিতক হিসেবেই আছে, এর বাইরে ভাঙা পরিমাণে থাকা সম্ভব না। এই যে চার্জ একটা নির্দিষ্ট মানের প্যাকেটে বা গোছায় থাকে, এটাই হলো চার্জের কোয়ান্টায়ন।

একদম বাচ্চাদের মতো করে বললে, চার্জ হলো চকলেট প্যাকেটের মতো। তুমি দোকান থেকে আস্ত প্যাকেট কিনতে পারবে, কিন্তু দেড় প্যাকেট চকলেট কিনতে পারবে না! 😀

Powered by Forestry.md