ক্ষারক ও ক্ষারের ধারণা

ক্ষারক ও ক্ষারের ধারণা

সাধারণভাবে, ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যৌগগুলোকে ক্ষারক বলা হয়, যারা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে।

আর যে সব ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়, তাদের ক্ষার বলে। ক্ষার জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোক্সাইড (OH⁻) আয়ন দান করে।

:::success
💡 এজন্যেই "সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।"
ব্যাপারটা এমন যে, সকল আমই ফল, কিন্তু সকল ফল আম নয়। এখানে, 'ক্ষারক' হলো 'ফল' এর মতো একটি বড় গ্রুপ, আর 'ক্ষার' হলো 'আম' এর মতো সেই গ্রুপের একটি নির্দিষ্ট অংশ যারা পানিতে গলে যায়।
:::

:::info
💡 ক্ষার হওয়ার দুটি শর্তঃ

১। OH থাকাই লাগবে।

২। পানিতে দ্রবনীয় বা বিয়োজিত হতেই হবে।
:::

প্রশ্নঃ

CaO,ZnO ক্ষারক হলেও ক্ষার নয় কেন?
উত্তরঃ হাইড্রোক্সাইড (OH) যৌগমূলক নেই।

প্রশ্নঃ

Fe(OH)2,Mg(OH)2 এগুলোতে OH থাকা সত্ত্বেও ক্ষার নয় কেন?
উত্তরঃ যৌগ দুটি পানিতে দ্রবণীয় নয়


শক্তিশালী ক্ষার ও দুর্বল ক্ষার

শক্তিশালী ক্ষার (Strong Alkali)

যেসব ক্ষার জলীয় দ্রবণে প্রায় পুরোপুরি (৯৭-৯৯%) বিয়োজিত হয়ে OH⁻ আয়ন তৈরি করে, তাদের শক্তিশালী ক্ষার বলে।
যেমন:

দুর্বল ক্ষার (Weak Alkali)

যেসব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়, তাদের দুর্বল ক্ষার বলে। এরা পুরোপুরি বিয়োজিত হয় না, তাই বিক্রিয়াটি উভমুখী চিহ্ন (⇌) দিয়ে দেখানো হয়।
যেমন:

:::info
💡 দুর্বল ক্ষারের দ্রবণে OH আয়নের পরিমাণ সবল ক্ষারের তুলনায় কম থাকে।
:::


ক্ষার ও ক্ষারকের সাধারণ ধর্ম

১. সাধারণ বৈশিষ্ট্য

২. এসিডের সাথে বিক্রিয়া (প্রশমন বিক্রিয়া)

ক্ষারক, এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে একে অপরের ধর্মকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং লবণ ও পানি তৈরি করে। এই বিক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization Reaction) বলে।

ক্ষারক + এসিড → লবণ + পানি

যেমন:

৩. অ্যামোনিয়াম লবণের সাথে বিক্রিয়া

ক্ষারকে অ্যামোনিয়াম লবণের সাথে মিশিয়ে উত্তাপ দিলে অ্যামোনিয়া গ্যাস (NH₃) উৎপন্ন হয়, যার একটি ঝাঁঝালো গন্ধ আছে।

যেমন:
NHCl+NaOHNaCl+HO+NH

:::warning
তাহলে কি স্যার ধাতুর অক্সাইড আর হাইড্রোক্সাইড হলেই সেটা ক্ষারক?
উত্তর হচ্ছে “হ্যাঁ”। যেমন, কপার অক্সাইড (CuO), আয়রন (III) হাইড্রোক্সাইড [Fe(OH)₃] ইত্যাদি ক্ষারক, কারণ এরা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে। কিন্তু এরা পানিতে দ্রবীভূত হয় না, তাই এরা ক্ষার নয়।
:::

:::info
অধাতুর অক্সাইডগুলো কী ধর্মী?
সিম্পল। এরা এসিড ধর্মী (কারণ এরা পানিতে মিশে এসিড তৈরি করে, যেমন: CO₂, SO₂)।
:::


ক্ষারক বনাম ক্ষার: Summary

ধর্ম (Property) ক্ষারক (Base) ক্ষার (Alkali)
সংজ্ঞা ও গঠন সাধারণত ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড, যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে। যে সকল ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
পানিতে দ্রবণীয়তা পানিতে দ্রবণীয় হতেও পারে, নাও হতে পারে। অবশ্যই পানিতে দ্রবণীয়।
OH⁻ আয়নের উপস্থিতি জলীয় দ্রবণে OH⁻ আয়ন দিতে পারে (যদি হাইড্রোক্সাইড হয়) বা নাও পারে (যদি অক্সাইড হয়)। জলীয় দ্রবণে অবশ্যই OH⁻ আয়ন দেয়।
লিটমাস পরীক্ষা শুধুমাত্র পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক (অর্থাৎ ক্ষার) লিটমাসের রঙ পরিবর্তন করে। লাল লিটমাসকে নীল করে।
এসিডের সাথে বিক্রিয়া সর্বদা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে। অবশ্যই করে, কারণ ক্ষার মাত্রই ক্ষারক।
সম্পর্ক সকল ক্ষারই ক্ষারক। সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
উদাহরণ NaOH, KOH, CuO, Fe(OH)₃, Al(OH)₃ NaOH, KOH, Ca(OH)₂, NH₄OH
Powered by Forestry.md