এসিডের বিক্রিয়া
এসিডের বিক্রিয়া
লঘু এসিডের বিক্রিয়া
1. ধাতব কার্বনেট এর সাথে বিক্রিয়া
লঘু এসিড ধাতব কার্বোনেটের সাথে বিক্রিয়া করে সবসময় ধাতব লবন+পানি+কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরী করে।
👉🏽
- (+ve) এর সাথে (-ve) মেলাও। যোজনী অনুযায়ী লবন ব্যালেন্স কর।
থেকে always বের হবে (& vice-versa) - বাকী থাকে কেবল পানি
2. ধাতব বাই-কার্বনেট এর সাথে বিক্রিয়া
এখানেও একই কাহিনী।
3. ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া
আগেই বলেছি, ধাতব অক্সাইড ক্ষারধর্মী। তাই এসিড এদের সাথে বিক্রিয়া করলে লবন আর পানি তৈরী হয়।
4. সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া
লঘু এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) তৈরি করে। এটি একটি সাধারণ প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া, যেখানে ধাতু এসিড থেকে হাইড্রোজেনকে সরিয়ে দেয়।
হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে হলে ধাতুটিকে অবশ্যই সক্রিয়তা সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হতে হবে।
ঠিক একারনেই
গাঢ় এসিডের বিক্রিয়া
সাধারণত, গাঢ় এসিডগুলো তিন ধরনের প্রধান বিক্রিয়া প্রদর্শন করে:
১. জারন ধর্ম (Oxidizing Properties)
২. নিরুদন ধর্ম (Dehydrating Properties)
৩. ধাতুর সাথে বিক্রিয়া (Reaction with Metals)
এবার প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে, সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।
১. জারন ধর্ম (Oxidizing Properties)
কেন গাঢ় এসিড জারক হিসেবে কাজ করে?
লঘু এসিডে শুধুমাত্র হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) বিক্রিয়ায় অংশ নেয়। কিন্তু গাঢ় এসিডে (যেমন- সালফিউরিক এসিড H₂SO₄ বা নাইট্রিক এসিড HNO₃) হাইড্রোজেন আয়ন ছাড়াও এসিডের মূল অংশ (অ্যানায়ন, যেমন- SO₄²⁻, NO₃⁻) বিক্রিয়া করার সুযোগ পায়।
এই মূলকগুলোতে কেন্দ্রীয় পরমাণুর (যেমন- সালফার বা নাইট্রোজেন) জারন অবস্থা খুব বেশি থাকে। ফলে, এরা অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে স্থিতিশীল হতে চায়। যখন কোনো পদার্থ ইলেকট্রন হারায়, তখন সে জারিত হয়। একারণে গাঢ় এসিডগুলো শক্তিশালী জারক হিসেবে কাজ করে।
কীভাবে এই বিক্রিয়া হয়?
গাঢ় এসিড যখন অন্য কোনো পদার্থকে জারিত করে, তখন সে নিজে বিজারিত হয়। যেমন, গাঢ় সালফিউরিক এসিড বিজারিত হয়ে সাধারণত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) গ্যাস তৈরি করে এবং গাঢ় নাইট্রিক এসিড বিজারিত হয়ে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) গ্যাস তৈরি করে।
উদাহরণ:
কার্বনের সাথে বিক্রিয়া: কার্বনকে জারিত করে কার্বন ডাইঅক্সাইডে (CO₂) পরিণত করে।
- সালফিউরিক এসিডের সাথে:
- নাইট্রিক এসিডের সাথে:
২. নিরুদন ধর্ম (Dehydrating Properties)
কেন গাঢ় এসিড নিরুদক হিসেবে কাজ করে?
কিছু গাঢ় এসিড, বিশেষ করে সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), পানির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত। এর পানি শোষণ করার ক্ষমতা আছে। কোনো যৌগ থেকে পানির অণু (H₂O) বের করে আনার এই ধর্মকেই নিরুদন বলা হয়।
কীভাবে এই বিক্রিয়া হয়?
গাঢ় H₂SO₄ অন্য কোনো যৌগের সংস্পর্শে এলে, সেই যৌগ থেকে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণুকে পানির অণু (H₂O) আকারে শোষণ করে নেয়।
উদাহরণ:
- চিনির সাথে বিক্রিয়া: চিনি (
) থেকে সমস্ত পানি শোষণ করে নেয় এবং অবশেষ হিসেবে শুধু কালো কার্বন পড়ে থাকে।
- ইথানল থেকে পানি অপসারণ: ইথানল (C₂H₅OH) থেকে এক অণু পানি অপসারণ করে তাকে ইথিন (C₂H₄) গ্যাসে পরিণত করে।
৩. ধাতুর সাথে বিক্রিয়া
কেন গাঢ় এসিড ধাতুর সাথে ভিন্নভাবে বিক্রিয়া করে?
আগেই দেখেছো যে লঘু এসিডের সাথে শুধু সক্রিয় ধাতুগুলো (যেমন- জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম) বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) তৈরি করে। কিন্তু কপার, সিলভারের মতো কম সক্রিয় ধাতুগুলো লঘু এসিডের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে না।
অপরদিকে, গাঢ় এসিড শক্তিশালী জারক হওয়ায় কম সক্রিয় ধাতুকেও জারিত করতে পারে। এই বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয় না, বরং এসিডটি নিজে বিজারিত হয়ে অন্য গ্যাস (যেমন- SO₂ বা NO₂) এবং লবণ ও পানি তৈরি করে।
কীভাবে এই বিক্রিয়া হয়?
ধাতুর সাথে গাঢ় এসিডের বিক্রিয়াটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া।
১. প্রথমে গাঢ় এসিড ধাতুকে জারিত করে ধাতব অক্সাইডে পরিণত করে।
২. পরে, সেই ধাতব অক্সাইড এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে।
উদাহরণ:
- কপারের সাথে গাঢ় সালফিউরিক এসিডের (H₂SO₄) বিক্রিয়া:
- কপারের সাথে গাঢ় নাইট্রিক এসিডের (HNO₃) বিক্রিয়া:
- জিঙ্কের সাথে গাঢ় সালফিউরিক এসিডের (H₂SO₄) বিক্রিয়া:
:::info
👉🏽 মূল পার্থক্য: ধাতুর সাথে লঘু এসিড দিলে হাইড্রোজেন গ্যাস পাবে, কিন্তু গাঢ় এসিড দিলে অন্য গ্যাস (যেমন
:::