এসিড বৃষ্টি
এসিড বৃষ্টি
সাধারণত বৃষ্টির পানি একটু অম্লীয় (
ভাবো তো, আকাশ থেকে যে বৃষ্টি পড়ছে, সেটা আসলে একটা দুর্বল এসিডের দ্রবণ! ভয়ের ব্যাপার, তাই না?
কীভাবে তৈরি হয় এই এসিড বৃষ্টি?
এর জন্য মূলত কিছু ভিলেন গ্যাস দায়ী। এরা হলো:
- সালফার ডাই-অক্সাইড (
): আসে কলকারখানা ও ইটভাটার ধোঁয়া থেকে। - নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (
): আসে গাড়ির ধোঁয়া ও বজ্রপাতের সময়।
চলো, ভিলেনদের অপরাধের ধাপগুলো দেখি:
১. নাইট্রোজেনের কাহিনী:
-
ধাপ ১: আকাশে যখন বজ্রপাত হয়, তখন প্রচণ্ড তাপে (প্রায় 3000°C) বাতাসের নাইট্রোজেন (
) আর অক্সিজেন ( ) মিলে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) গ্যাস তৈরি করে। -
ধাপ ২: এই NO গ্যাস আবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে মিশে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (
) তৈরি করে। -
ধাপ ৩: সবশেষে, এই
গ্যাস বৃষ্টির পানির ( ) সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রাস এসিড ( ) ও নাইট্রিক এসিড ( ) এর মতো শক্তিশালী এসিড তৈরি করে বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে।
২. সালফারের কাহিনী (এটাও জেনে রাখা ভালো):
কলকারখানা থেকে বের হওয়া
এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব
এসিড বৃষ্টি আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- মাটি ও গাছপালা: এসিড বৃষ্টি মাটির pH কমিয়ে দেয়, ফলে মাটি উর্বরতা হারায়। এতে গাছপালা ঠিকমতো পুষ্টি পায় না এবং ফসল নষ্ট হয়ে যায়। গাছের পাতাও ঝলসে যায়।
- নদী ও জলাশয়: পুকুর, নদী বা লেকের পানিতে এসিড বৃষ্টি পড়লে সেখানকার পানিও অম্লীয় হয়ে যায়। ফলে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ মারা যায়।
- দালানকোঠা ও ভাস্কর্য: এসিড বৃষ্টি মার্বেল পাথর বা চুনাপাথর দিয়ে তৈরি দালান, মূর্তি বা ঐতিহাসিক নিদর্শনের (যেমন: তাজমহল) মারাত্মক ক্ষতি করে। কারণ, এই পাথরগুলো হলো ক্যালসিয়াম কার্বনেট (
), যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষয় হয়ে যায়। - মানুষের স্বাস্থ্য: এসিড বৃষ্টি সরাসরি মানুষের ত্বকের খুব বেশি ক্ষতি না করলেও, এই বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাসগুলো (
ও ) আমাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের কারণ হতে পারে।