মৃদু আর শক্তিশালী তড়িৎ বিশ্লেষ্য
তড়িৎ বিশ্লেষ্যের শক্তি পরীক্ষা (কে শক্তিশালী, কে দুর্বল?)
ভাবো, তুমি এক গ্লাস পানিতে কিছু লবণ বা অ্যাসিড মেশালে। পানিতে যাওয়ার পর ওরা ভেঙে গিয়ে আয়ন (চার্জযুক্ত কণা) তৈরি করে। কিন্তু সবাই কি একইভাবে ভাঙে? না! কেউ কেউ পুরোপুরি ভেঙে যায়, আবার কেউ কেউ খুব অল্প ভাঙে।
এই ভাঙার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই আমরা তড়িৎ বিশ্লেষ্যদের দুই ভাগে ভাগ করি।
১. শক্তিশালী তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Strong Electrolyte) - "All-In" প্লেয়ার
এরা পানিতে যাওয়ার সাথে সাথে প্রায় ১০০% ভেঙে আয়ন তৈরি করে। মানে, যতগুলো অণু তুমি পানিতে দেবে, প্রায় সবগুলোই ক্যাটায়ন আর অ্যানায়নে পরিণত হবে।
বৈশিষ্ট্য:
- সম্পূর্ণ বিয়োজন: এরা পানিতে প্রায় পুরোপুরি ভেঙে যায়।
- প্রচুর আয়ন: যেহেতু সবাই ভেঙে যায়, তাই দ্রবণে প্রচুর মুক্ত আয়ন ঘুরে বেড়ায়।
- উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী: আয়নের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এরা খুব ভালোভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। এদের দ্রবণে বাল্ব লাগালে বেশ উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে।
- একমুখী বিক্রিয়া: এদের ভাঙার বিক্রিয়াটা শুধু একদিকেই ঘটে, তাই তীর চিহ্ন (
) দিয়ে দেখানো হয়।
উদাহরণ:
- শক্তিশালী অ্যাসিড: সালফিউরিক অ্যাসিড (
), হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ( )। - শক্তিশালী ক্ষার: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (
), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ( )। - প্রায় সকল লবণ: খাবার লবণ (
), কপার সালফেট ( )।
২. মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Weak Electrolyte) - "লাজুক" প্লেয়ার
এরা খুব লাজুক প্রকৃতির। পানিতে দেওয়ার পর এদের খুব সামান্য অংশ (যেমন ৫%) ভেঙে আয়নে পরিণত হয়, বাকি ৯৫% অণু হিসেবেই থেকে যায়।
বৈশিষ্ট্য:
- আংশিক বিয়োজন: এরা পানিতে খুব অল্প পরিমাণে ভাঙে।
- কম আয়ন: দ্রবণে মুক্ত আয়নের সংখ্যা অনেক কম থাকে।
- দূর্বল বিদ্যুৎ পরিবাহী: আয়ন কম থাকায় এরা বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবহন করতে পারে না। এদের দ্রবণে বাল্ব লাগালে টিমটিম করে জ্বলবে বা জ্বলবেই না।
- উভমুখী বিক্রিয়া: এদের ভাঙা এবং আবার জোড়া লাগার প্রক্রিয়াটা একসাথে চলতে থাকে, তাই উভমুখী তীর চিহ্ন (
) দিয়ে দেখানো হয়।
উদাহরণ:
- দুর্বল অ্যাসিড: অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা ভিনেগার (
), কার্বনিক অ্যাসিড (সোডা ওয়াটার, )। - দুর্বল ক্ষার: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (
)। - বিশুদ্ধ পানি (
): পানি নিজেও একটা অত্যন্ত মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য।