ভরবেগ ও সংঘর্ষ

ভরবেগ ও সংঘর্ষ

একটি গাড়ির ব্রেক করা থেকে শুরু করে রকেটের মহাকাশ যাত্রা পর্যন্ত সবকিছুই ভরবেগের নীতির উপর চলে। চলো, এ সম্পর্কে বিষয়গুলো সহজভাবে জেনে নিই।

ভরবেগ (Momentum, P)

সংজ্ঞা: সহজ ভাষায়, ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর "গতির পরিমাণ"। কোনো গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে তার ভরবেগ বলে।

গাণিতিক রূপ:

P=mv

ভরবেগ ও গতিশক্তির সম্পর্ক

এটি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক।
আমরা জানি, গতিশক্তি

Ek=12mv2

এখান থেকে,

Ek=(mv)22m=P22mEk=P22m

এই সূত্র দিয়ে ভরবেগ জানা থাকলে গতিশক্তি এবং গতিশক্তি জানা থাকলে ভরবেগ বের করা যায়।

ভরবেগের সংরক্ষণশীলতা সূত্র (Law of Conservation of Momentum)

এটি নিউটনীয় বলবিদ্যার অন্যতম স্তম্ভ।

সূত্র: "যদি কোনো বস্তুকণার সিস্টেমের উপর বাহ্যিক কোনো বল প্রযুক্ত না হয়, তবে সিস্টেমের মোট রৈখিক ভরবেগ অপরিবর্তিত বা সংরক্ষিত থাকবে।"

ব্যাখ্যা: নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র থেকে আমরা জানি,

Fext=dPdt

যদি বাহ্যিক বল Fext=0 হয়, তবে dPdt=0

এর মানে হলো, ভরবেগ ( P ) সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ এটি একটি ধ্রুবক।

সংঘর্ষের ক্ষেত্রে মূল সূত্র:

সংঘর্ষের আগের মোট ভরবেগ = সংঘর্ষের পরের মোট ভরবেগ

Pinitial=Pfinalm1u1+m2u2=m1v1+m2v2

এখানে, u হলো আদিবেগ এবং v হলো শেষবেগ।


সংঘর্ষ (Collision) ও তার প্রকারভেদ

সংঘর্ষ মানেই দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি ধাক্কা লাগা নয়। খুব অল্প সময়ের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে শক্তিশালী পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বল কাজ করলে তাকে সংঘর্ষ বলে। গতিশক্তি সংরক্ষিত থাকে কি না, তার উপর ভিত্তি করে সংঘর্ষকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

ক) স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ (Elastic Collision)

যে সংঘর্ষে বস্তুর মোট রৈখিক ভরবেগ এবং মোট গতিশক্তি উভয়ই সংরক্ষিত থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।

শর্ত:

  1. ভরবেগ সংরক্ষিত: Pi=Pf
  2. গতিশক্তি সংরক্ষিত: Eki=Ekf

বাস্তবতা: পরমাণু বা মৌলিক কণার সংঘর্ষ প্রায় পুরোপুরি স্থিতিস্থাপক। কিন্তু বাস্তব জগতে দুটি বিলিয়ার্ড বলের সংঘর্ষকে প্রায় স্থিতিস্থাপক ধরা হয়।

সংঘর্ষের পর বেগ নির্ণয়ের সূত্র (একমাত্রিক সংঘর্ষের জন্য):

v1=(m1m2m1+m2)u1+(2m2m1+m2)u2v2=(m2m1m1+m2)u2+(2m1m1+m2)u1

:::warning
💡 গুরুত্বপূর্ণ শর্টকাট (MCQ Special):
যদি স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষে দুটি বস্তুর ভর সমান হয় (m1=m2),

তবে তারা পরস্পরের মধ্যে বেগ বিনিময় করে।
অর্থাৎ,

v1=u2 এবং v2=u1
:::

খ) অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ (Inelastic Collision)

যে সংঘর্ষে বস্তুর মোট রৈখিক ভরবেগ সংরক্ষিত থাকে, কিন্তু মোট গতিশক্তি সংরক্ষিত থাকে না, তাকে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।

শর্ত:

  1. ভরবেগ সংরক্ষিত: Pi=Pf
  2. গতিশক্তি সংরক্ষিত নয়: EkiEkf (সাধারণত গতিশক্তি কমে যায়)

শক্তির অপচয়: গতিশক্তির কিছু অংশ তাপ, শব্দ বা বস্তুর অভ্যন্তরীণ গঠ পরিবর্তনে ব্যয় হয়ে যায়।

পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ: যদি সংঘর্ষের পর বস্তু দুটি একসাথে মিলিত হয়ে একটিমাত্র বস্তু হিসেবে চলতে থাকে (v1=v2=V), তবে তাকে পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।

সূত্র:

m1u1+m2u2=(m1+m2)V

গ) অতি-স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ (Super-elastic Collision)

যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত থাকে কিন্তু গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, তাকে অতি-স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।

শর্ত:

  1. ভরবেগ সংরক্ষিত: Pi=Pf
  2. গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়: Ekf>Eki

ব্যাখ্যা: এক্ষেত্রে বস্তুর অভ্যন্তরীণ বিভব শক্তি (যেমন রাসায়নিক বা নিউক্লীয় শক্তি) গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উদাহরণ: কোনো বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ।


বন্দুকের পশ্চাৎবেগ (Recoil of a Gun)

এটি ভরবেগের সংরক্ষণশীলতার একটি ক্লাসিক উদাহরণ।

0=mv+MVV=mMv

ঋণাত্মক চিহ্ন নির্দেশ করে যে, বন্দুকের বেগ গুলির বেগের ঠিক বিপরীত দিকে।


Demo Questions

সমস্যা ১: 4 kg ভরের একটি বস্তু 10 m/s বেগে চলার পথে স্থির থাকা 6 kg ভরের একটি বস্তুকে ধাক্কা দিলো। সংঘর্ষটি স্থিতিস্থাপক হলে, সংঘর্ষের পর বস্তু দুটির বেগ কত হবে?

:::spoiler সমাধান:

এখানে,

m1=4kg,u1=10m/s,m2=6kg,u2=0m/sv1=(464+6)10+(2×64+6)0=210×10=2m/sv2=(2×44+6)10+(644+6)0=810×10=8m/s

অর্থাৎ, প্রথম বস্তুটি 2 m/s বেগে পেছনে ফিরে আসবে এবং দ্বিতীয় বস্তুটি 8 m/s বেগে সামনে এগিয়ে যাবে।
:::

সমস্যা ২: 10 গ্রাম ভরের একটি বুলেট 300 m/s বেগে ছুটে এসে একটি স্থির থাকা 2 কেজি ভরের কাঠের ব্লকে প্রবেশ করে আটকে গেল। মিলিত বস্তুটির বেগ কত?

:::spoiler সমাধান:

এখানে,

m1=10g=0.01kg,u1=300m/s,m2=2kg,u2=0

যেহেতু আটকে গেছে, এটি পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ। মিলিত বেগ V হলে,

m1u1+m2u2=(m1+m2)V(0.01×300)+(2×0)=(0.01+2)V3=2.01VV=32.011.49m/s

মিলিত ব্লকটি 1.49 m/s বেগে চলতে থাকবে।
:::

Powered by Forestry.md