গতি সম্পর্কিত বিভিন্ন রাশি

গতি সম্পর্কিত বিভিন্ন রাশি

আমরা যখন কোনো কিছুর গতি নিয়ে কথা বলি, তখন কিছু শব্দ বা রাশি ব্যবহার করি, যেমন – দূরত্ব, সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদি। চলো, এগুলোর পোস্টমর্টেম করা যাক।

১. দূরত্ব (Distance) ও সরণ (Displacement)

এই দুটোকে অনেকেই এক ভেবে ভুল করে, কিন্তু এরা আসলে সৎ ভাইয়ের মতো, দেখতে একরকম হলেও আসল পরিচয় আলাদা।

উদাহরণ:
মনে করো, তুমি বাড়ি A থেকে বেরিয়ে সোজা 4 মিটার দূরে দোকানে B গেলে। তারপর সেখান থেকে 90 কোণে বাঁক নিয়ে 3 মিটার হেঁটে তোমার বন্ধু রাজুর বাসায় C গেলে।

দেখলে তো, দূরত্ব হলো 7 মিটার, কিন্তু সরণ মাত্র 5 মিটার!

২. দ্রুতি (Speed) ও বেগ (Velocity)

দূরত্ব আর সরণের মতোই, দ্রুতি আর বেগের মধ্যেও একটা দিক-নির্দেশনার পার্থক্য আছে।

৩. গড় দ্রুতি (Average Speed) ও গড় বেগ (Average Velocity)

এটাই হলো আসল প্যাঁচের জায়গা! কিন্তু একদম সোজা।

পার্থক্যটা একটা উদাহরণ দিয়ে ক্লিয়ার করি:
মনে করো, একটা ছেলে একটা বৃত্তাকার মাঠের (ব্যাসার্ধ 7 মিটার) A বিন্দু থেকে দৌড় শুরু করে পুরো এক চক্কর দিয়ে আবার A বিন্দুতেই ফিরে এলো। তার সময় লাগলো 10 সেকেন্ড।

এবার হিসাব করো:

ব্যাপারটা দেখলে? ছেলেটা এত কষ্ট করে দৌড়ালো, কিন্তু তার গড় বেগ শূন্য! কারণ পদার্থবিজ্ঞানের চোখে, তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তনই হয়নি।

৪. ত্বরণ (Acceleration)

সময়ের সাথে বেগ পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। মানে, তোমার বেগ কত দ্রুত বাড়ছে বা কমছে। এটা একটা ভেক্টর রাশি।

image

ত্বরণ তিন রকম হতে পারে:

  1. ধনাত্মক ত্বরণ: যখন বেগ সময়ের সাথে বাড়ে (যেমন: গাড়ি চলা শুরু করলে)।
  2. ঋণাত্মক ত্বরণ বা মন্দন: যখন বেগ সময়ের সাথে কমে। অর্থাৎ বিপরীত দিকের ত্বরণ (যেমন: ব্রেক কষলে)।
  3. শূন্য ত্বরণ: যখন বেগ একই থাকে, অর্থাৎ বস্তু সমবেগে চলে।

৫. তাৎক্ষণিক বেগ ও ত্বরণ (Instantaneous Velocity and Acceleration)

গড় বেগ তো আমাদের একটা লম্বা সময়ের ধারণা দেয়। কিন্তু কোনো একটা ‘নির্দিষ্ট মুহূর্তে’ বেগ বা ত্বরণ কত, সেটা কীভাবে বের করব? গাড়ির স্পিডোমিটারের কাঁটা তো প্রতি মুহূর্তের স্পিড দেখায়, তাই না? এই প্রতি মুহূর্তের বেগ বা ত্বরণকেই তাৎক্ষণিক বা Instantaneous বলে।

এখানেই ক্যালকুলাসের কাহিনী শুরু

ভাবো তো, "একটা মুহূর্ত" মানে কী? মানে হলো, সময়টা এতই ছোট যে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি (Δt0)। এই অতি ক্ষুদ্র সময়ে সরণের পরিবর্তনকে সময় দিয়ে ভাগ করলেই ওই মুহূর্তের বেগ পাওয়া যায়। আর এই কাজটাই করে ক্যালকুলাসের ডিফারেন্সিয়েশন (Differentiation) বা অন্তরীকরণ

একটা গাণিতিক উদাহরণ দেখি:

কোনো একটা কণার সরণের সমীকরণ হলো s(t)=2t33t2+5t+1 মিটার।
প্রশ্ন: t=2 সেকেন্ড সময়ে কণাটির তাৎক্ষণিক বেগ ও ত্বরণ কত?

সমাধান:

১. তাৎক্ষণিক বেগ বের করি:
বেগের সমীকরণ হলো সরণের সমীকরণকে t এর সাপেক্ষে ডিফারেন্সিয়েট করা।
v(t)=dsdt=ddt(2t33t2+5t+1)
v(t)=(2×3t31)(3×2t21)+(5×1t11)+0
v(t)=6t26t+5

এখন t=2 সেকেন্ডে বেগ:
v(2)=6(2)26(2)+5
v(2)=6(4)12+5=2412+5=17m/s

২. তাৎক্ষণিক ত্বরণ বের করি:
ত্বরণের সমীকরণ হলো বেগের সমীকরণকে t এর সাপেক্ষে ডিফারেন্সিয়েট করা।
a(t)=dvdt=ddt(6t26t+5)
a(t)=(6×2t21)(6×1t11)+0
a(t)=12t6

এখন t=2 সেকেন্ডে ত্বরণ:
a(2)=12(2)6=246=18m/s2

Powered by Forestry.md